মেশিনের উৎপাদনশীলতা বাড়াতে ভালো লুব্রিকেন্টের বিকল্প নেই

২০১৭ নভেম্বর ০২
মেশিনের উৎপাদনশীলতা বাড়াতে ভালো লুব্রিকেন্টের বিকল্প নেই

অ্যাপারেল প্রতিবেদক: গুণগতমানসম্পন্ন নিট পণ্য তৈরির জন্য ভালো মেশিনারির যেমন প্রয়োজন তেমনি মেশিনকে সচল রাখার জন্য প্রয়োজন ভালো লুব্রিকেন্ট। গুণগতমানসম্পন্ন লুব্রিকেন্টের গুরুত্ব তুলে ধরতে সম্প্রতি এক সেমিনারের আয়োজন করা হয় তেজগাঁওয়ের বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব টেক্সটাইল (বুটেক্স)-এর সেমিনার হলে। গত ১৭ অক্টোবর কোয়ালিটি অ্যান্ড ইভ্যালুয়েশন অব নিটিং লুব্রিক্যান্ট’ শীর্ষক সেমিনারটির আয়োজন করে বুটেক্সের টেক্সটাইল মেশিনারি ডিজাইন অ্যান্ড মেইনটেনেন্স ডিপার্টমেন্ট এবং বুটেক্স টেক্সম্যাচ সোসাইটি। সেমিনারটি স্পন্সর করে বাংলাদেশ-ভারত যৌথ মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান ডাচ লুব কোম্পানি লিমিটেড। সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ডাচ লুব কোম্পানি লিমিটেডের সিইও ইঞ্জিনিয়ার কাওসার আলম সিকদার। সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বুটেক্সের ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ইঞ্জিনিয়ার মাসুদ আহমেদ। বিশেষ অতিথি ছিলেন ডাচ লুব কোম্পানি লিমিটেডের চেয়ারম্যান ভিজেস বাবুভি প্যাটেল এবং উক্ত কোম্পানির ম্যানেজিং ডিরেক্টর মোঃ নূর ইমান। এতে সভাপতিত্ব করেন বুটেক্সের সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং ফ্যাক্টাল্টির ডিন প্রফেসর ড. এস এম মোমিনুল আলম।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে বুটেক্সের ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ইঞ্জিনিয়ার মাসুদ আহমেদ বলেন, নতুন এই ডিপার্টমেন্টটিকে আমরা যেভাবে দেখতে চেয়েছি তারা ঠিক সেভাবেই কাজ করছে। আমরা একটি জিনিস দেখতে পাচ্ছি যে, আমাদের গার্মেন্টস খাতের উদ্যোক্তারা মিলিয়ন মিলিয়ন ডলার খরচ করে মেশিন কিনছেন কিন্তু এসব মেশিন ফিটিং এবং রক্ষণাবেক্ষণের জন্য দেশের বাইরে থেকে লোক আনতে হচ্ছে। আমাদের দেশে এক্ষেত্রে দক্ষ প্রকৌশলীর অভাব রয়েছে। বিদেশ থেকে প্রকৌশলী আনলে তাদের পেছনে খরচও অনেক বেশি পড়ে। তাই আমরা চাই আমাদের দেশে নিজস্ব মেশিন উৎপাদন হোক, মেশিনের পার্টস এবং অ্যাক্সেসরিজ আমরাই উৎপাদন করি এবং এগুলোর মেইনটেনেন্সের জন্য আমাদের নিজস্ব দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি হোক। উন্নত দেশগুলোতে টেক্সটাইল এডুকেশনের সুযোগ নেই। বাংলাদেশ যেহেতু অ্যাপারেল এবং টেক্সটাইল খাতে বিশ্বে প্রভাবশালী অবস্থানে রয়েছে তাই এক্ষেত্রে আমাদের ছেলে-মেয়েদের ভবিষ্যৎ খুবই উজ্জ্বল। তিনি সেমিনারে উপস্থিত ছাত্রছাত্রীদের নিজের জ্ঞানকে বিকশিত করে আগামীদিনের দক্ষ প্রকৌশলী হওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বাংলাদেশে একটি গবেষণা ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপনের জন্য ডাচ লুব কোম্পানি লিমিটেডের চেয়ারম্যানের প্রতি আহ্বান জানান।

ডাচ লুব কোম্পানির চেয়ারম্যান ভিজেস বাবুভি প্যাটেল বলেন, নিটিং মেশিনে উচ্চ গতি আনতে দরকার ভালো লুব্রিকেন্ট। অয়েল বা লুব্রিকেন্টই মেশিন চালু রাখে। ডাচ লুব কোম্পানির পণ্য টেক্স লুব’ বিশ্বের অন্যতম সেরা লুব্রিকেন্ট উল্লেখ করে বাংলাদেশে এই পণ্যের ব্যবহার বাড়ানোর আহ্বান জানান তিনি।

ডাচ লুব কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোঃ নূর ইমান তার বক্তব্যে ভবিষ্যৎ ইঞ্জিনিয়ারদের প্রতি নতুন নতুন দেশীয় পণ্য ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন।

মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনের শুরুতেই ইঞ্জিনিয়ার কাওসার আলম সিকদার হাস্যরস করে বলেন, তেল ছাড়া ব্যক্তিজীবন, চাকরি, সমাজ-সংসার, রাষ্ট্র, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক কোনো কিছুই ভালো চলে না। আবার সেই তেলের মানও হতে হবে ভালো। তাহলে সুফল পাওয়া যাবে।

তিনি বলেন, ডাচ লুব কোম্পানি বাংলাদেশে স্থাপিত প্রথম নিটিং অয়েল উৎপাদনকারী প্ল্যান্ট। তাই এটি হলো আন্তর্জাতিক মানের দেশি পণ্য। বাংলাদেশে যেসব প্রচলিত লুব্রিকেন্ট আছে সেগুলোর ওপর গবেষণা করে নতুন একটি সলিউশন বের করেছে ডাচ লুব কোম্পানি। এটি ভারত-বাংলাদেশের যৌথ উদ্যোগের প্ল্যান্ট। এর প্রধান কার্যালয় ভারতের গুজরাটে। নিটিং মিলগুলোর খরচ ব্যাপকভাবে কমিয়ে আনার উদ্দেশ্য নিয়ে ডাচ লুব কোম্পানি বাংলাদেশে এসেছে। তারা উন্নত মানের ব্যয় সাশ্রয়ী নিটিং অয়েল স্থানীয় নিটিং মিলগুলোকে সরবরাহ করছে। এই লুব্রিকেন্ট ব্যবহার করে নিটিং ফ্যাক্টরিগুলো তাদের উৎপাদন দ্বিগুণ করতে সক্ষম হবে এবং ওয়েস্টেজ ৫০ শতাংশের বেশি কমিয়ে আনতে পারবে। তিনি বলেন, এই তেল ব্যবহারে মেশিনের উৎপাদনশীলতা বাড়বে, কেমিক্যালের ব্যয় কমবে এবং বিদ্যুৎ খরচ সাশ্রয় হবে।

ইঞ্জিনিয়ার কাউসার বলেন, তাদের কোম্পানির ব্র্যান্ড পণ্য ‘টেক্স লুব’ ব্যবহার করলে মেশিনের সুই ভাঙার হার কমে আসবে। এর ফলে কোম্পানির ক্ষতি কমবে। তিনি বলেন, ডাচ লুব কোম্পানি নিটিং মেশিনের জন্য সঠিক লুব্রিকেন্ট নিশ্চিত করে আসছে। আমরা পণ্য বিক্রির পর এর কেয়ার নিয়ে থাকি। আমাদের মজুদও রয়েছে যথেষ্ট। যেহেতু প্ল্যান্ট বাংলাদেশেই অবস্থিত তাই যে পরিমাণ চাহিদাই থাকুক না কেন আমরা তাৎক্ষণিকভাবে তা সরবরাহ করতে সক্ষম।

তিনি বলেন, লুব্রিকেন্ট ভালো না হলে মেশিনের আয়ু কমবে এবং উৎপাদনশীলতা হ্রাস পাবে। অনেকেই লুব্রিকেন্ট কেনার ক্ষেত্রে সস্তা পণ্য নির্বাচন করেন। কিন্তু এতে তাৎক্ষণিকভাবে তার কিছু ব্যয় সাশ্রয় হলেও দীর্ঘমেয়াদে অনেক ক্ষতি হয়ে যায়। তাই সস্তা পণ্য না কিনে টেকসই ব্যবসার জন্য গুণগতমানের পণ্যই কেনা উচিত।

অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন টেক্সটাইল মেশিনারি ডিজাইন অ্যান্ড মেইনটেনেন্স বিভাগের হেড অব ডিপার্টমেন্ট মোঃ আসাদুজ্জামান। অনুষ্ঠান উপস্থাপনা করেন একই বিভাগের শিক্ষার্থী প্রিথিলা কামাল ও হোমাইরা জাহান তিশা।



রে